Forum for Energy Reporters Bangladesh
Image default
Bangla News

অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ

রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাসের দৃশ্যমান অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ গ্যাস লাইন বহাল থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও কাটা হচ্ছে না অনেক লাইন। এর পেছনে তিতাসসহ রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততারও অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয় আমলে নিয়ে দ্রুত সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ১৭তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকার বৃহস্পতিবার রাতে এ বিষয়ে সংবাদকে বলেন, ‘গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিয়ে কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। দৈনিক ‘সংবাদ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আমরা পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দিয়েছি। সেখানে স্পষ্ঠ দেখা যাচ্ছে, একটি বেইলি ব্রিজের ওপর দিয়ে গ্যাসের অবৈধ লাইন টানা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও নওগাঁ-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. শহীদুজ্জামান সরকার বলেন,

‘তিতাসগ্যাস কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ করছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে বরখাস্থ করা হয়েছে।’ বাস্তবতা হচ্ছে অবৈধ সংযোগ কমছে না, বরং বাড়ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। কমিটি মনে করে ‘এ বিষয়ে যতটা গুরুত্ব দেয়া দরকার, তা করা হচ্ছে না।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের পেছনে বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত থাকার প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির অলোচনায় অংশ নিয়ে এ ধরনের কাজে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন।

 

২০ বছরের গ্যাসের বকেয়া বিল কত?

গত বিশ বছরে গ্যাসের বিল কত বকেয়া পড়েছে, এর তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপনের পাশপাশি দ্রুততম সময়ে এ খাতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে ধীরগতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে একশ্রেণীর লোকজনের সুবিধা কমে যাবে, যার কারণে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজে গতি আসছে না।’

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার ১৭তম বৈঠকে বিগত ১৫তম বৈঠকের কার্যবিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের চলমান এবং পাইপ লাইনে থাকা প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি এবং তদসংশ্লিষ্ট বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং অনুমোদিত চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্নকরণে সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মো. আবু জাহির, মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম, বেগম নার্গিস রহমান এবং মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

Related Posts

মহেশখালীর দরপত্র জানুয়ারিতে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পায়রার ভাসমান এনএলজি টার্মিনাল 42 Shares facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttoncopy sharing buttonprint sharing button অ- অ+ মহেশখালীর দরপত্র জানুয়ারিতে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পায়রার X মহেশখালীর দরপত্র জানুয়ারিতে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পায়রার বরিশালের পায়রা বন্দরের কাছে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আপাতত হচ্ছে না। এখানে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে কি না, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে আগামী বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। দেশের গ্যাস চাহিদা মেটাতে দিন দিন এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু বাড়েনি রিগ্যাসিফিকেশন করার ক্ষমতা। রিগ্যাসিফিকেশনের ক্ষমতা বাড়াতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আরও নতুন দুটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে দেশি-বিদেশি দুটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি দুটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিশেষ আইনের অধীনে হয়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জ্বালানি খাতের বিশেষ আইন স্থগিত করে। পাশাপাশি এই আইনের অধীনে হওয়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের চুক্তি দুটি বাতিল করে। আওয়ামী লীগ সরকার মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। আর চতুর্থ পায়রা এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে টার্ম-শিট চুক্তি করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার এ প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দরপত্র তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি আমরা। আগামী বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হবে। আর চতুর্থ ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের আগে প্রাক-সমীক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, পায়রা এলাকায় প্রস্তাবিত চতুর্থ টার্মিনালের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করতে খরচের বিষয় রয়েছে, আবার নাব্য ইস্যুও রয়েছে। ভাসমান টার্মিনালটি নির্মাণের পর অর্থনৈতিকভাবে সফল হবে কি না, তা নিয়ে আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেই টার্মিনালটি করা হবে। বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু রয়েছে। একটি পরিচালনা করছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। এক্সিলারেট এনার্জি মহেশখালী টার্মিনাল থেকে বর্তমানে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। পেট্রোবাংলার সঙ্গে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অন্যটি এক্সিলারেট থেকে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছে সামিট গ্রুপ। সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সামিটের সঙ্গে টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি হয়। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, কোনোরকম দরপত্র ছাড়া বিশেষ আইনের আওতায় চলতি বছরে ৩০ মার্চ সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল খসড়া চুক্তি অনুমোদন করে। চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল চালুর পর থেকে ১৫ বছর মেয়াদে দৈনিক ৩ লাখ ডলার (চুক্তিতে উল্লিখিত বিনিময় হার অনুযায়ী ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ) রিগ্যাসিফিকেশন চার্জ পাওয়ার কথা ছিল সামিট গ্রুপের। টার্মিনালটির ১৫ বছর মেয়াদে রিগ্যাসিফিকেশন চার্জ বাবদ সামিট গ্রুপকে দিতে হতো প্রায় ১৭ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা (ডলার ১১০ টাকা হারে), যা গত অক্টোবরে বাতিল করে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। যদিও সামিট গ্রুপ এ বিষয়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড থেকে ১ টাকা দরে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি থেকে ১ টাকা ২৫ পয়সা দরে, বাপেক্স থেকে ৪ টাকা দরে গ্যাস কেনে সরকার। বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ ও তাল্লোর কাছ থেকে কেনা গ্যাসের সংমিশ্রণে গড় দর দাঁড়ায় ঘনমিটারে ৬ টাকা ৭ পয়সা। দেশীয় এসব উৎস থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে দৈনিক কমবেশি ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এলএনজি আমদানি থেকে ৯০০ মিলিয়ন গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশের কম আমদানিতেই গড় দর ৬ টাকা ৬ পয়সা থেকে বেড়ে ২৪ টাকা ৩৮ পয়সা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্পট মার্কেট থেকে আনা এলএনজির দাম পড়েছিল ৬৫ টাকা, যা আগস্টে (২০২৪) ৭১ টাকায় কিনতে হয়েছে। এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করতে ত্রাহি অবস্থা, সেই সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুত ফুরিয়ে আসছে। এতে প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে উৎপাদন। এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত। ১৭ নভেম্বর ১ হাজার ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন হয়েছে। ১০ দিন আগেও যা ছিল ১ হাজার ৯৭২ মিলিয়নে। পেট্রোবাংলার প্রাক্কলন বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। ত্বরিত ঘাটতি মোকাবিলায় বিকল্প কম থাকলেও এলএনজি আমদানিকে বিপজ্জনক বিকল্প মনে করেন অনেকেই। দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কয়েক দশকের স্থবিরতার জন্যই আজকের করুণ পরিণতি মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

KHOKON

আরও পাঁচ বছর ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত

FERB

উপেক্ষিতই থাকল জ্বালানি খাত

KHOKON