Forum for Energy Reporters Bangladesh
Image default
Bangla News

বারবার কেন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন

লুৎফর রহমান কাকন :

দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বা সাব-স্টেশনে প্রায়ই ঘটছে অগ্নিকাণ্ড। অপ্রত্যাশিত এসব দুর্ঘটনায় শুধু ওই স্টেশনই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন, ভুগতে হচ্ছে ওই স্টেশনের আওতাধীন এলাকার বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে। সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর সিলেটের কুমারগাঁও সাব-স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওই অঞ্চলের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ ৩১ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন।

এটিই শুধু নয়, ২০২০ সালে অন্তত ৯টি বৈদ্যুতিক স্থাপনায় অগ্নিকা- সংঘটিত হয়। এসব দুর্ঘটনা তদন্তে যেসব কমিটি গঠন করা হয়, বরাবরই দেখা গেছে- সেসব কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনগুলো অনেকটাই দায়সারা গোছের হয়ে থাকে। উপরন্তু এসব প্রতিবেদনে তুলে ধরা সুপারিশগুলোও আমলে নেওয়া হয় না। তাই দুর্ঘটনাও কমে না। তবে কুমারগাঁও সাব-স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট মহল; সরকারের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি। এ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে বাস্তবিকই বেরিয়ে এসেছে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনগুলোতে আগুন লাগার নেপথ্য কারণ। কমিটির সুপারিশে উঠে এসেছে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে কী কী করণীয়, সেসব বিষয়ও। কমিটি বলছে, নিম্নমানের ‘সিটি’ (উচ্চ বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্র) ব্যবহারের কারণে গ্রিডে আগুন লেগেছে।

এ ছাড়া নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ স্থাপন, নিয়মিত সংস্কারের অভাব, সার্বিকভাবে কারিগরি বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া এবং উপকেন্দ্রের সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতা বৃদ্ধি বা সম্প্রসারণের কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বোপরি রয়েছে যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব।

এ খাতের বিশেষজ্ঞরাও অনেকদিন থেকেই দুর্ঘটনার জন্য উপরোক্ত বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে আসছেন। তারা আরও বলছেন, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার পাশাপাশি সমন্বিত কারিগরি পরিকল্পনার অভাবও রয়েছে এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে। এসব বিষয় থেকে উত্তরণে শিগগিরই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অন্যথা ভবিষতে আরও ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এসব সমস্যার সঙ্গে যন্ত্রাংশ ক্রয়ে গুণগতমান নিশ্চিত না করার বিষয়টিও যোগ করেছেন। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে একটা সময়ে এসে দেশ পড়বে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে।

এদিকে ক্ষমতাসীন সরকার চলতি বছরের মধ্যে সারাদেশ শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী নির্মাণ করা হচ্ছে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় স্থাপনা। এসব স্থাপনায়ও যদি বরাবরের মতো নিম্নমানের যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয় এবং যথাযথ কারিগরি বিচার-বিশ্লেষণ না করে নির্মাণ করা হয়, তা হলে দুর্ঘটনার সংখ্যাও ক্রমানুপাতিক হারে বাড়তেই থাকবে।

সিলেটের কুমারগাঁও উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের জেরে সরকারগঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অতিরিক্ত সচিব রহমত উল্লাহ মো. দস্তগীরকে। ৬ সদস্যের ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহযোগী অধ্যাপক ইয়াসির আরাফাত, প্রধান বিদ্যুৎ পরির্দশক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য মুস্তাক মুহাম্মদ, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স) মো. মাসুম আলম বকসী এবং পাওয়ার সেলের পরিচালক (সাসটেইনেবল এনার্জি) মো. আব্দুর রৌফ।

এ কমিটি যে প্রতিবেদন পেশ করেছে, তাতে দেশের অন্যসব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে দুর্ঘটনার কারণও উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে অগ্নিকা- এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, সে সম্পর্কেও একটি দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে। শুধু তা-ই নয়, কমিটির প্রতিবেদনে দেশের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রগুলোর বেহালও উঠে এসেছে; এসেছে যন্ত্রাংশ ক্রয় থেকে শুরু করে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে অব্যবস্থাপনার উদ্বেগজনক চিত্রও।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রে আগুন লাগার কারণ সেসব উপকেন্দ্রের যন্ত্রাংশে ত্রুটি। উপকেন্দ্রগুলোতে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে থাকে দেশের একটি কোম্পানি ছাড়াও মেসার্স স্টেলমেক ইন্ডিয়া ও মেসার্স সিমেন্স ইন্ডিয়া নামের দুটি কোম্পানি। আর তাদের সরবরাহকৃত যন্ত্রাংশগুলো সচরাচর সস্তায় চীনে তৈরি, যেগুলোর অধিকাংশই নিম্নমানের। দেখা গেছে, অধিকাংশ অগ্নিকা-ে বিশেষ একটি যন্ত্রাংশ (সিটি) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যে যন্ত্রাংশটি এ তিনটি কোম্পানি নিজেরাই তৈরি করছে নতুবা চীন থেকে অত্যন্ত কম দামে নিয়ে আসছে এবং বলাবাহুল্য, এগুলো নিম্নমানেরও।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের কারণ অনুসন্ধানে যে বিশ্লেষণ উঠে এসেছে, তাতেও দেখা গেছে ট্রান্সফরমারটির ৩৩ কেভি ‘সিটি’ বিস্ফোরণের ফলে আগুনের সূত্রপাত। সেই ‘সিটি’টি তৈরি করেছিল এ দেশেরই একটি কোম্পানি, যেটি একচ্ছত্রভাবে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল টঙ্গীতে ২৩০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের তদন্ত প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করেছে কুমারগাঁও অগ্নিকা-ের পর গঠিত তদন্ত কমিটি। টঙ্গীর ২৩০/১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের ১৩২/৩৩ কেভি ট্রান্সফরমারের ৩৩ কেভি ‘সিটি’ বিস্ফোরনের ফলে আগুনের সূত্রপাত। সেই ‘সিটিগুলো’ ক্রোম্পটন গ্রেভেস লিমিটেড (সিজিএল) ইন্ডিয়ার তৈরি। তদন্ত কমিটি বলছে, সার্বিক বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ৩৩ কেভি ‘সিটিগুলোর’ নির্মাণজনিত ত্রুটি বা দুর্বলতা রয়েছে। ফলে এগুলো বিস্ফোরিত হয়েই আগুনের সুত্রপাত। এ ছাড়া গত বছরের ২৩ মে কুষ্টিয়া ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের পর গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ৩৩ কেভি ‘সিটি’ ইনস্যুলেশন ফেইলিউরের কারণে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত।

কুমারগাঁও দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সোর্স তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। অন্যথা যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিশাল অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকতে হবে বলে মনে করছে কমিটি। এ কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একাধিক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা বা আগুনের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সব জায়গায় ৩৩ কেভি ‘সিটি’ বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত। কমিটি বলছে, গুণগতমানসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও মালামাল ক্রয় নিশ্চিত না করা, ৩৩ কেভি সাইটের গ্রাউন্ডিং ব্যবস্থার উন্নয়ন না করা এবং ৩৩ কেভির জন্য পৃথক ডিসি সিস্টেম স্থাপন না করায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট দপ্তর দায়ী। দায়িত্বশীলদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে সম্পাদন না করায় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৯ বার বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রগুলোতে আগুন লেগেছে। আগুনে পুড়ে যায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন-বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ট্রান্সফরমারসহ মূল্যবান নানা সরঞ্জাম। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালীতে অগ্নিকা-ে পুড়ে যায় ট্রান্সফরমার। দুদিন পর একই উপকেন্দ্রে আরেক দফা আগুন লাগে। ফলে প্রায় এক সপ্তাহ ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। গত ১১ এপ্রিল রাজধানীর রামপুরার উলন গ্রিডে অগ্নিকা-ে রাজধানীর বেশকিছু এলাকা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। গত ২০ মে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সাবস্টেশনে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জে নির্মাণাধীন উপকেন্দ্রে আগুন লাগে।

বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের কারণ কী? এমন প্রশ্নে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ঠিকাদারদের নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা নিজের আখের গোছাতে গুণগতমান নিয়ে আপস করছে। ফলে নিম্নমানের যন্ত্রাংশের কারণে কিছুদিন পর পর আগুন লাগছে।

বৈদ্যুতিক কেন্দ্রে সচরাচর প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে; কিন্তু দুর্যোগ ছাড়াই কেন দেশের উপকেন্দ্রগুলোতে আগুন লাগছে, এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক প্রকৌশলী আমাদের সময়কে বলেন, বৈদ্যুতিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে গ্রিড সাবস্টেশন বা উপকেন্দ্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব উপকেন্দ্রে সঠিক ও মানসম্পন্ন যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হলে এমনটি হতো না। এক্ষেত্রে যথার্থ যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখার দায়িত্বে আছেন যারা, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা ঠিকাদার কর্তৃক অসদুপায় অবলম্বন করছেন। যন্ত্রাংশের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। বলেন, সব উপকেন্দ্রেই সার্কিট ব্রেকারসহ কিছু সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা থাকে। অর্থাৎ কেন্দ্রের কোথাও সমস্যা-ত্রুুটি দেখা দিলে তা যেন প্রকট না হয় অথবা ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সার্কিট ব্রেকার স্থাপন করা হয়। সংকটের সময় সার্কিট ব্রেকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু আমাদের এখানে আগুনের ঘটনার পর দেখা যাচ্ছে সার্কিট ব্রেকার ঠিকমতো কাজ করছে না। তার মানে এগুলো আগে থেকেই নিম্নমানের বা ত্রুুটিপূর্ণ ছিল, অথবা পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে অকেজো হয়ে যায়। ফলে সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

বুয়েটের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে আগুন লাগা কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ এবং রক্ষণাবেক্ষণে যত্নশীল না হলে এমন অগ্নিকা- বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, এখনই সময় শক্ত অবস্থান নেওয়ার। কোনোভাবেই নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা যাবে না। নয়তো ভবিষতে আরও বড় সংকট দেখা দেবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক অগ্নিকা- প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, এ ধরনের অগ্নিকা-ের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, উপকেন্দ্রে যারা দায়িত্বে থাকেন তারা কেউ দায় এড়াতে পারেন না। দায়িত্বহীনতাই এসব অগ্নিকা-ের মূল কারণ বলে মনে করেন তিনি। বলেন, দায়িত্ববোধের প্রতি আন্তরিক হলে সকল সমস্যাই দ্রুত সবাধান করা সম্ভব। কুমারগাঁও উপকেন্দ্রের তদন্ত কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানান প্রতিমন্ত্রী।

 

সিলেটের অগ্নিকা-ের ঘটনায় প্রতিবেদনে এককভাবে কাউকে দায়ী করা না হলেও ১৯৬৭ সালে স্থাপিত উপকেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন না করা এবং কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দাখিলকৃত প্রতিবেদনে নিম্নোক্ত সুপারিশ করা হয়- পিজিসিবির নিয়ন্ত্রণাধীন ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের ইকুইপমেন্টসের কন্ট্রোল ও প্রটেকশনের জন্য ডিসি সিস্টেম (ডিসি সোর্স ব্যাটারি, চার্জার ও ডিস্ট্রিবিউশন প্যানেল) এবং বিউবোর নিয়ন্ত্রণাধীন ৩৩ কেভি বাস ও ইকুইপমেন্টসের কন্ট্রোল ও প্রটেকশনের জন্য ডিসি সিস্টেম জরুরিভিত্তিতে সম্পূর্ণ পৃথক করা, ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থাপন করা, জরুরি ভিত্তিতে গ্রাউন্ডিং সিস্টেম বৃদ্ধিপূর্বক যথাযথমানে উন্নয়ন সম্প্রসারণ করা, ভূগর্ভস্থ কন্ট্রোল ক্যাবলিং সিস্টেম জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা, ফল্ট লেভেল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৩২ কেভি ও ৩৩ কেভিতে প্যারালালে সংযুক্ত পাওয়ার ট্রান্সফরমারগুলো জরুরি ভিত্তিতে পৃথক করা, পাওয়ার ট্রান্সফরমার, কারেন্ট ট্রান্সফরমার, পটেনশিয়াল ট্রান্সফরমার, সার্কিট ব্রেকার ইত্যাদি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্টসগুলো উচ্চ গুণগতমান সম্পন্ন হওয়া, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দক্ষ কারিগরি জনবল দ্বারা দেশের সব গ্রিড উপকেন্দ্র ইন্সপেকশনের ব্যবস্থা করা, উপকেন্দ্রের সংরক্ষণ কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তদারকি আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপকেন্দ্রের পরিচালন ও সংরক্ষণ কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পিজিসিবি ও বিউবো কর্তৃক পৃথকভাবে জনবল পদায়ন করা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টির ব্যবস্থা করা, গ্রিড উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্টগুলো (ট্রান্সফরমার সিটি/পিটি, র্সাকিট ব্রেকার, ব্যাটারি চার্জার ইত্যাদি) নিয়মিত পরীক্ষা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং এসকল যন্ত্রপাতির জন্য ইতিহাস বই সংরক্ষণ করা, জরুরি ভিত্তিতে কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের বিকল্প সোর্স তৈরি করা।

Related Posts

মহেশখালীর দরপত্র জানুয়ারিতে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পায়রার ভাসমান এনএলজি টার্মিনাল 42 Shares facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttoncopy sharing buttonprint sharing button অ- অ+ মহেশখালীর দরপত্র জানুয়ারিতে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পায়রার X মহেশখালীর দরপত্র জানুয়ারিতে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পায়রার বরিশালের পায়রা বন্দরের কাছে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আপাতত হচ্ছে না। এখানে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে কি না, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে আগামী বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। দেশের গ্যাস চাহিদা মেটাতে দিন দিন এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু বাড়েনি রিগ্যাসিফিকেশন করার ক্ষমতা। রিগ্যাসিফিকেশনের ক্ষমতা বাড়াতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আরও নতুন দুটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে দেশি-বিদেশি দুটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি দুটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিশেষ আইনের অধীনে হয়। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জ্বালানি খাতের বিশেষ আইন স্থগিত করে। পাশাপাশি এই আইনের অধীনে হওয়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের চুক্তি দুটি বাতিল করে। আওয়ামী লীগ সরকার মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। আর চতুর্থ পায়রা এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে টার্ম-শিট চুক্তি করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার এ প্রসঙ্গে কালবেলাকে বলেন, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দরপত্র তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি আমরা। আগামী বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হবে। আর চতুর্থ ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের আগে প্রাক-সমীক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, পায়রা এলাকায় প্রস্তাবিত চতুর্থ টার্মিনালের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করতে খরচের বিষয় রয়েছে, আবার নাব্য ইস্যুও রয়েছে। ভাসমান টার্মিনালটি নির্মাণের পর অর্থনৈতিকভাবে সফল হবে কি না, তা নিয়ে আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেই টার্মিনালটি করা হবে। বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু রয়েছে। একটি পরিচালনা করছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। এক্সিলারেট এনার্জি মহেশখালী টার্মিনাল থেকে বর্তমানে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। পেট্রোবাংলার সঙ্গে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অন্যটি এক্সিলারেট থেকে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছে সামিট গ্রুপ। সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সামিটের সঙ্গে টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি হয়। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, কোনোরকম দরপত্র ছাড়া বিশেষ আইনের আওতায় চলতি বছরে ৩০ মার্চ সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল খসড়া চুক্তি অনুমোদন করে। চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল চালুর পর থেকে ১৫ বছর মেয়াদে দৈনিক ৩ লাখ ডলার (চুক্তিতে উল্লিখিত বিনিময় হার অনুযায়ী ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকার সমপরিমাণ) রিগ্যাসিফিকেশন চার্জ পাওয়ার কথা ছিল সামিট গ্রুপের। টার্মিনালটির ১৫ বছর মেয়াদে রিগ্যাসিফিকেশন চার্জ বাবদ সামিট গ্রুপকে দিতে হতো প্রায় ১৭ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা (ডলার ১১০ টাকা হারে), যা গত অক্টোবরে বাতিল করে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। যদিও সামিট গ্রুপ এ বিষয়ে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড থেকে ১ টাকা দরে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি থেকে ১ টাকা ২৫ পয়সা দরে, বাপেক্স থেকে ৪ টাকা দরে গ্যাস কেনে সরকার। বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ ও তাল্লোর কাছ থেকে কেনা গ্যাসের সংমিশ্রণে গড় দর দাঁড়ায় ঘনমিটারে ৬ টাকা ৭ পয়সা। দেশীয় এসব উৎস থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে দৈনিক কমবেশি ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এলএনজি আমদানি থেকে ৯০০ মিলিয়ন গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশের কম আমদানিতেই গড় দর ৬ টাকা ৬ পয়সা থেকে বেড়ে ২৪ টাকা ৩৮ পয়সা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্পট মার্কেট থেকে আনা এলএনজির দাম পড়েছিল ৬৫ টাকা, যা আগস্টে (২০২৪) ৭১ টাকায় কিনতে হয়েছে। এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করতে ত্রাহি অবস্থা, সেই সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুত ফুরিয়ে আসছে। এতে প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে উৎপাদন। এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত। ১৭ নভেম্বর ১ হাজার ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন হয়েছে। ১০ দিন আগেও যা ছিল ১ হাজার ৯৭২ মিলিয়নে। পেট্রোবাংলার প্রাক্কলন বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। ত্বরিত ঘাটতি মোকাবিলায় বিকল্প কম থাকলেও এলএনজি আমদানিকে বিপজ্জনক বিকল্প মনে করেন অনেকেই। দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কয়েক দশকের স্থবিরতার জন্যই আজকের করুণ পরিণতি মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

KHOKON

বিদ্যুৎ জ্বালানির বাহবা প্রকল্প

KHOKON

বিতর্কিত ও বেশি দরদাতা কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার ছক

KHOKON